শিশুসাহিত্য: নদীর গল্প


বড় বড় পাহাড়কে আমরা বলি ‘পর্বত’। পর্বত যখন আকাশের দিকে উঠতে থাকে। তখন ঠান্ডায় পর্বতের চূড়ায় সাদা সাদা বরফ জমে। আর পর্বতের মাথার উপর যখন সূর্য ওঠে তাপ দিতে থাকে। তখন সেই পর্বতচূড়ার বরফ একটু একটু করে গলতে থাকে। কিন্তু এ বরফগলা জল কোথায় যায়?

পর্বতের বরফগলা জল অবশ্যই কলকল ছলছল শব্দে পর্বতের গা বেয়ে নেমে আসে তাই না? আর একেই আমরা বলি ঝর্ণা। বহু ঝর্নার মিলেমিশে এক হওয়া মানেই বহু উপনদীর সৃষ্টি। আবার সেই উপনদীরা যখন একসাথে চলতে থাকে তখনই তাকে আমরা বলি ‘নদী’। ঝর্ণা থেকে উপনদী, উপনদী থেকে নদী, আর সেখান থেকে শাখানদী। এভাবে বারবার জলের সঙ্গে জলের দেখা হয়। তবে এসব নদী-শাখানদীরা শুধু যে জলই বয়ে নেয় তা নয়। মাছ, পাখি, কচুরীপনা, শ্যাওলা, নৌকা আরও কত কি বয়ে নিয়ে যায়। বয়ে নেয়াতেই শেষ নয়। তারা এ বয়ে চলার পথে প্রকৃতির এক সুন্দর পরিবর্তন নিয়ে আসে। এমনি করে যেতে যেতে সকল ঝর্ণা, উপনদী, নদী, শাখানদীরা পৌঁছে যায় মস্ত বড় নদীর বুকে। যেখানে হয় জলের মিলনমেলা। সেখানেই তারা পথচলার যত গল্প জুড়ে দেয়। কিন্তু, ঐ মস্ত বড় নদীটার নাম কি? সুইমিংপুলের গল্প নিমিষেই করা যায়। কিন্তু পর্বত থেকে মস্ত বড় নদী হওয়ার গল্প দু-এক লাইনে কখনই করা যায় না। শিশু মানেই কৌতুহলের এক মস্তিষ্ক। তারা স্বাভাবিকভাবে যেকোনো কিছু, যেকোনো জায়গা অন্বেষণ করে এবং কয়েক ডজন প্রশ্ন জিজ্ঞাসা করে। যেহেতু বাংলাদেশ একটি নদীমাতৃক দেশ। যেখানেই যাবেন পর্বত-ঝর্ণা-নদী-সমুদ্র পাবেন। তখন শিশুদের ডজন ডজন প্রশ্নের সহজ সমাধান ‘নদীর গল্প’। বইটির চারু চিত্রের মাধ্যমে সহজেই বোঝাতে পারবেন এত জল আর এই নদী কিভাবে আসলো। শুধু তাই নয়, জলের সাথে জলের, নদীর সাথে নদীর আন্তরিক বন্ধুত্বের একটি সাদৃশ্যও পাবেন। এমনকি নদীরা কিভাবে আমাদের প্রাকৃতিকভাবে সাহায্য করছে তাও শিশুদের জানাতে পারবেন। চমৎকার একটি বই। রয়েছে প্রাকৃতিক বিজ্ঞানের শিশুসুলভ রেশ। রয়েছে নদীমাতৃক বাংলাদেশের সোয়াদ। বিশেষ করে চিত্রগুলো। এত সূক্ষ্মতার সাথে বহু রঙে রাঙিয়ে আঁকা হয়েছে যে আমি নিজেই এ পর্যন্ত মনোমুগ্ধ হয়ে হিসেব ছাড়া বহুবার দেখেছি। বইটা না পড়ে, শুধু ছবি দেখেও ‘নদীর গল্প’-টি জানতে পারবে যেকোনো বয়সী শিশু। সহজ ভাষায়, মাত্র কয়েকটি বাক্যে এবং অপরূপ চিত্রের মাধ্যমে অনায়াসে বইটি পড়ে ফেলতে পারবে আপনার ৪-৮ বছর বয়সী শিশু। ব্যক্তিগতভাবে, এ বইটি আমি সকল বাংলাদেশি বাবা-মা/অভিভাবককে সুপারিশ করছি। প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে আবৃত বাংলাদেশের নাগরিক হয়ে আপনার শিশুটি বড় হওয়ার আগেই যেন তাকে ‘নদীর গল্প’ -টি পড়ার সুযোগ দেয়া হয়। বইটি ঘরে বসেই অর্ডার করতে ভিজিট করুন www.mayurpankhi.com


Comments

Popular posts from this blog

How to Take a Great Book Photo for Social Media